মৌসুমি বৃষ্টির তীব্রতায় ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
সোমবার থেকে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে উত্তর সুমাত্রার বিভিন্ন নদী উপচে পড়ে ছয়টি রিজেন্সির গ্রামাঞ্চলে কাদামাটি, পাথর ও ভেসে আসা গাছের ডালপালা ঢুকে পড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে।
বুধবার জাতীয় পুলিশ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, অস্থির পাহাড়ি ঢাল এবং অব্যাহত বৃষ্টির কারণে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে উদ্ধার দল পৌঁছাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
উপকূলীয় শহর সিবোলগায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সেখানে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এখনো চারজন নিখোঁজ, যাদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পাশের সেন্ট্রাল তাপানুলিতে ভূমিধসে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে একই পরিবারের অন্তত চারজন নিহত হন, আর তীব্র বন্যায় প্রায় ২,০০০ বাড়িঘর ও বিভিন্ন সরকারি ভবন প্লাবিত হয়েছে।
এর আরও দক্ষিণে সাউথ তাপানুলিতে বন্যা ও গাছ উপড়ে পড়ে একজন নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
মানদাইলিং নাটাল জেলায় একটি সেতু ভেঙে পড়ায় আশপাশের এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সেখানে ৪৭০টি বাড়ি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। নাইয়াস দ্বীপে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে কয়েকটি গ্রামসংলগ্ন প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতির বন্যার পানি ঘরবাড়ির ছাদ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে, মানুষজন উচ্চভূমির দিকে ছুটছে। হঠাৎ সৃষ্ট ফ্ল্যাশ ফ্লাড অনেক এলাকায় রাস্তাকে উত্তাল স্রোতে পরিণত করে, যা গাছের গুঁড়ি, গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ভাঙাচোরা কাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
সিবোলগার পুলিশ প্রধান এডি ইঙ্গানতা জানান, শহরজুড়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢালের কাছে বসবাসকারীদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়টি ভূমিধসে ১৭টি বাড়ি ও একটি ক্যাফে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “খারাপ আবহাওয়া এবং কাদার স্লাইড উদ্ধারকাজকে বাধাগ্রস্ত করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও ঢালধসের ঝুঁকি রয়েছে।”
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা একই দিনে সেন্ট্রাল জাভার দুটি জেলায় ১০ দিনের অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত করে। সেখানে আগের ঝড়ে ৩৮ জন নিহত হন। ১,০০০ এর বেশি উদ্ধারকর্মী নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও দুর্বল ভূমি এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আরও অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখনও চিলাকাপ ও বাঞ্জারনেগারায় ১৩ জন নিখোঁজ।
অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টির সময় ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের বন্যা ও ভূমিধস নিয়মিত ঘটে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষ নদীর তীরবর্তী সমতলভূমিতে এবং পাহাড়ি, ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করে।
















