ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর আইনজীবী দল দ্বিতীয় আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মঙ্গলবার বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাইস এই ঘোষণা দেন। বর্তমানে বলসোনারোকে ব্রাসিলিয়ার ফেডারেল পুলিশ সদর দপ্তরে রাখা হয়েছে এবং সেখান থেকেই তাঁর সাজা কার্যকর হবে।
গত সেপ্টেম্বর বলসোনারোকে দণ্ডিত করা হয় ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতায় টিকে থাকতে অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা চালানোর অভিযোগে। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিপথগামী করার চেষ্টা, সশস্ত্র ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং একটি জাতীয় ঐতিহ্যবাহী স্থানে ক্ষতি সাধনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেয়।
বলসোনারো ২৭ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং বহু বছর আইনসভায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, তিনি ক্ষমতায় থেকে ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৩ সালে নির্বাচনী আদালত রায় দেয়—তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে বলসোনারো সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে। তিনি প্রকাশ্যে পরাজয় স্বীকার না করলেও তাঁর সমর্থকেরা সারা দেশে বিক্ষোভে নামে এবং ব্রাসিলিয়ায় পুলিশ সদর দপ্তরেও হামলা হয়। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি লুলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহ পর বলসোনারোর সমর্থকেরা তিন ক্ষমতার ভবন ঘেরাও করে দাঙ্গা ছড়ায়।
এর পর ফেডারেল পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত চালায় এবং ২০২৪ সালে প্রকাশিত ৮৮৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ করে—বলসোনারো ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে লুলাকে ক্ষমতায় যাওয়া আটকানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয় যে কিছু সামরিক কর্মকর্তা লুলাকে বিষ প্রয়োগ বা বিচারপতি মোরাইসকে হত্যার মতো পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
চলতি বছরে বলসোনারোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও অভ্যুত্থান-চেষ্টার মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। তাঁর আইনজীবীরা অভিযোগ করেন—পুরো প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এবং ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
আগস্ট থেকে বলসোনারো ঘরোয়া কারাবন্দী অবস্থায় ছিলেন, কারণ আদালত মনে করেছিল তিনি পালিয়ে যেতে পারেন। ২০২৪ সালে তিনি হাঙ্গেরির দূতাবাসে কয়েক রাত কাটানোর পর তাঁর পালানোর আশঙ্কা আরও বাড়ে। পরে পুলিশ তাঁর কাছে এমন একটি চিঠি পায় যা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইকে লেখা বলে দাবি করা হয়, যেখানে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চান।
সাম্প্রতিক সময়ে বলসোনারোর আইনজীবীরা স্বাস্থ্যগত কারণে গৃহবন্দী অবস্থায় সাজা কাটানোর আবেদন করেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর থেকে পেটের সমস্যায় ভুগছেন। তবে গত শনিবার তাঁর পায়ে থাকা ইলেকট্রনিক মনিটর বিকল করে দেওয়ার অভিযোগে তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করা হয়। বলসোনারো দাবি করেছেন—তিনি যে ওষুধ নিচ্ছিলেন তাতে তাঁর মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু বিচারপতি মোরাইস মন্তব্য করেন—“পালানোর খুব গুরুতর ইঙ্গিত” পাওয়া গেছে।
















