ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বিস্তার লাভ করায় কিউবা সতর্ক করেছে যে ওয়াশিংটন যেন ‘সহিংস হস্তক্ষেপের’ দিকে দেশটিকে ঠেলে না দেয়। কিউবার অভিযোগ—যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই—এই পাগলামি বন্ধ করুন।” তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কর্মকাণ্ড “অগণিত প্রাণহানি ঘটাতে পারে” এবং সমগ্র মহাদেশে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন।
এমন অভিযোগ এমন সময়ে উঠছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন। যদিও ওয়াশিংটন বারবার দাবি করেছে যে মাদুরোর সরকার মাদক পাচারে জড়িত, তবে কোনো প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।
গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরে অন্তত ২১টি নৌকা বোমা হামলায় ধ্বংস করেছে, যেখানে ৮৩ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে—এই নৌকাগুলো মাদক পরিবহনে জড়িত ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো মাদক উদ্ধার দেখায়নি এবং আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনকি মাদক পাওয়া গেলেও এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখন ক্যারিবিয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫,০০০ সামরিক সদস্য অবস্থান করছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মোতায়েন।
ট্রাম্প দাবি করছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার সরকার পতনের চেষ্টা করছেন না। তবে রোববার রয়টার্স জানিয়েছে, চারজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে—ওয়াশিংটন “নতুন ধাপের অপারেশন” প্রস্তুত করছে এবং এর দুই কর্মকর্তার মতে—মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্প সিআইএ-কে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান পরিচালনার অনুমতি দেন। একই সঙ্গে মাদুরোর মাথার ওপর ঘোষিত পুরস্কার বাড়িয়ে ৫০ মিলিয়ন ডলার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরো অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে চায় এবং ভেনেজুয়েলার জনগণ ও সেনাবাহিনী এমন যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শব্দ “কার্তেল দে লস সোলে”–কে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (FTO) হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। যদিও এটি কোনো প্রকৃত কার্তেল নয়, বরং দুর্নীতির অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত একটি শব্দ।
এদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ক্যারিবিয়ানে সফর শুরু করেছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে প্রধানমন্ত্রী কামলা প্রসাদ-বিসেসরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় মাদক পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
কেইন সোমবার পুয়ের্তো রিকোতে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বুধবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডোমিনিকান রিপাবলিক সফর করে প্রেসিডেন্ট লুইস আবিনাদের এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। পেন্টাগন জানিয়েছে—এ সফরের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা।














