সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশজুড়ে টানা পাঁচদিনের দীর্ঘ ছুটির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনদিন সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে ছুটির ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর সঙ্গে পরবর্তী দুই দিন শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট পাঁচদিনের অবিচ্ছিন্ন ছুটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই দীর্ঘ ছুটির আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকবেন জরুরি সেবাসহ রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা, যাদের যথারীতি পূজার ছুটির দিনগুলোতেও নিজ নিজ অফিস ও কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, পূজার ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির ঠিক মাঝখানের কর্মদিবস অর্থাৎ আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচদিনের ছুটির এই সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই ছুটির ভারসাম্য বজায় রাখতে এর আগে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার একটি অতিরিক্ত কর্মদিবস হিসেবে সমস্ত সরকারি অফিস খোলা রাখা হবে। এর আগে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি ছুটির তালিকা পুনর্বিন্যাস করে এই ছুটি অনুমোদনের প্রস্তাব পাস করা হয়। ২০২৬ সালের মূল সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত ছিল। এর সঙ্গে ২২ অক্টোবরের অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হলো।
এদিকে, প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের বেশ কিছু জরুরি পরিষেবা ও অত্যাবশ্যকীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত থাকবেন এবং তাঁদের যথারীতি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। ছুটির আওতার বাইরে থাকা খাত ও সেবাসমূহ হলো— ১) জরুরি পরিষেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, নদীবন্দর ও অন্যান্য বন্দরের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক সেবা এবং এই সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা। ২) হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসেবা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষ কর্মীরা। ৩) চিকিৎসাসেবায় সরাসরি নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী জরুরি যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। ৪) রাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের জরুরি কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারি ও আংশিক সরকারি অফিসসমূহ।
অন্যদিকে, আর্থিক খাতের অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম ও আদালতের ছুটির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হবে। এছাড়া বেসরকারি খাতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও এর কার্যকারিতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ এর বিধান অনুসরণ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে প্রজ্ঞাপনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে, সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুর্গাপূজার এই আনন্দঘন উৎসবে টানা পাঁচদিনের ছুটির অবকাশ মিললেও জনস্বার্থ ও জরুরি সেবা রক্ষার্থে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর কর্মীদের কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়েই দিনগুলো অতিবাহিত করতে হবে।






















