ইরান যুদ্ধের অবসানে প্রাথমিক চুক্তির সাফল্য তুলে ধরে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও লেবাননের চলমান সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সোমবার পৌঁছান ট্রাম্প। তার এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সম্মেলনের আয়োজক ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি ও শেয়ারবাজারে দেখা যাচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম কমছে এবং শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের অবসানের উদ্যোগ সফল হওয়ার পর ট্রাম্প জানান, এখন তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং লেবাননের সংঘাতের দিকে মনোযোগ দিতে চান। তিনি বলেন, সম্প্রতি ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে তার ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মিত্রদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ না করায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। জবাবে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানে তার মিত্ররা যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি।
এদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের দাবি, জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন খুব বেশি নাও হতে পারে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ছাড়াও জি-৭ সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বাজার নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত বিরল খনিজের বাজারে চীনের প্রভাবও আলোচনার অন্যতম বিষয়।
বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর এই সম্মেলন বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















