১৯৮০–এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিসমাস বাজারে এমন উন্মাদনা আগে দেখা যায়নি। ১৯৮৩ সালের শেষদিকে ক্যাবেজ প্যাচ কিডস নামের নরম খেলনা পুতুল নিয়ে মার্কিন শহরগুলোতে দেখা দেয় এক ধরনের বিশৃঙ্খলা, যা কয়েকটি দোকানে প্রায় দাঙ্গার রূপ নেয়।
পেনসিলভানিয়ার উইলকস–বারের এক ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পুতুল কিনতে ভিড়ে এক নারী পা ভেঙে ফেলেন, আহত হন আরও চারজন। পুতুল শেষ হয়ে গেলে ক্ষুব্ধ ক্রেতাদের শান্ত করতে দোকান ব্যবস্থাপককে হাতে বেসবল ব্যাট নিয়ে দাঁড়াতে হয়েছিল।
তখনকার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই খেলনা না পাওয়ার দুশ্চিন্তায় অনেক অভিভাবকই দিশেহারা ছিলেন। প্যাটি কোলাচিনো নামের এক মা বলেন, “ক্রিসমাস সকালে মেয়েকে কী বলব? ভালো ছিলে, কিন্তু সান্তা পুতুল কম পড়েছিল?”
বিবিসি তৎকালীন প্রতিবেদনে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রে “প্রি–ক্রিসমাস বিক্রয়–হাইপ” বলে উল্লেখ করলেও, ব্রিটেনে প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলক শান্ত। তবু লন্ডনের দোকানগুলোতেও পুতুল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এক মার্কিন ডাককর্মী এমনকি লন্ডনে উড়ে এসে পুতুল কিনে দেশে ফিরে যান। হ্যারডস–এর শেষ নয়টি পুতুল কিনে নেন ডালাসের ছয় এয়ার হোস্টেস।
পুতুলগুলোর জনপ্রিয়তার বড় কারণ ছিল তাদের অনন্য ধারণা। প্রতিটির আলাদা মুখাবয়ব, ব্যক্তিত্বের বিবরণ, জন্ম–সনদ ও দত্তক ফর্ম ছিল। নির্মাতা জাভিয়ার রবার্টস নিজের স্বাক্ষর দিতেন পুতুলের নিচে। তিনি বলেন, এগুলোকে তিনি কখনও পুতুল হিসেবে দেখেননি; বরং শিল্পকর্ম হিসেবে তৈরি করেছিলেন।
জর্জিয়ার ক্লিভল্যান্ডের এই সাবেক শিল্প শিক্ষার্থীর হাতে তৈরি “লিটল পিপল” পুতুলে প্রথম দিকে ৪০ ডলার “দত্তক ফি” নেওয়া হতো। এরপর তিনি ১৯৭৮ সালে “বেবিল্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল” নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কেন্দ্র চালু করেন, যেখানে অভিনয়–নির্ভর পরিবেশে “ডাক্তার–নার্স”রা পুতুল ‘জন্ম’ দিত এবং ক্রেতারা শপথ নিয়ে সেগুলো ‘দত্তক’ নিতেন।
১৯৮২ সালে ইলেকট্রনিক খেলনা নির্মাতা কোম্পানি কোলেকো এই ধারণা গ্রহণ করে পুতুলের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করে এবং নতুন নাম দেয় “ক্যাবেজ প্যাচ কিডস”। এরপরই শুরু হয় বিশ্বব্যাপী উন্মাদনা।
পুতুলের জনপ্রিয়তা এত দ্রুত বাড়ে যে এগুলোকে ব্যঙ্গ করে তৈরি হয় কার্টুন–ভিত্তিক “গারবেজ পেইল কিডস” কার্ড সিরিজ। পরে পুতুলের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করলে সেটিও আদালতের বাইরে মীমাংসা হয়।
আজও খেলনা–উন্মাদনার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন রূপে দেখা যায়—টিকল মি এলমো থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক লাবুবু পুতুল পর্যন্ত। লন্ডনেও লাবুবু কেনা নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
১৯৮৩ সালের শেষ নাগাদ রবার্টস ও কোলেকো জানায়, দুই–দেড় মিলিয়নের বেশি ক্যাবেজ প্যাচ কিডস ‘দত্তক’ যেতে পারে। আর কত আয় হয়েছে—এ প্রশ্নে রবার্টসের জবাব ছিল, “অনেক। সত্যিই অনেক।”
















