হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রদীপকে চিহ্নিত—লিয়াকতের চার গুলিতে মৃত্যুর প্রমাণও বহাল রাখল আদালত
মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এতে ওসি প্রদীপকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, পা দিয়ে চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন প্রদীপ।
২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ঢাকা
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান আসামি প্রদীপ কুমার দাশকে হত্যার “মাস্টারমাইন্ড” ও “পরিকল্পনাকারী” হিসেবে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রদীপ সিনহার বাম পাঁজরে জুতো পরানো পা দিয়ে জোরে আঘাত করেন এবং পরে গলার বাম পাশে পা চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এসব তথ্য প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণিত—হাইকোর্টের মতে।
রবিবার বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ ৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান রায়টি লিখেছেন।
লিয়াকতের চার গুলিই ছিল ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সিনহার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরপর চারটি গুলি করেন, যার আঘাতে সিনহার মৃত্যু ঘটে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড বহাল
হাইকোর্ট বলেছে, দু’জন প্রধান আসামির অপরাধ “সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত” হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড সঠিকভাবেই দিয়েছেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ছয় আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে।
মামলার ধারাবাহিকতা
২০২০ সালের ৩১ জুলাই কক্সবাজার–টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে পুলিশ চৌকিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। মামলায় ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে র্যাব চার্জশিট দাখিল করে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিচারিক আদালত প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও দণ্ডিতদের আপিল হাইকোর্টে আসে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে শুনানি শেষে ২৩ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলো।
















