গাজার আকাশে ধোঁয়ার রেখা এখনো শুকোয়নি, ঠিক সেই সময় কায়রোতে মিসরের গোয়েন্দা प्रमुख হাসান রাশাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে হামাসের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল। হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের একের পর এক হামলা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপকে বিপদে ফেলছে, আর সেই ক্ষতচিহ্নই যেন আলোচনার টেবিলে ভারী হয়ে ছিল।
রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইসরায়েলের “অবিরাম লঙ্ঘন” পুরো চুক্তিকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাসিত গাজা নেতা খালিল আল-হাইয়াসহ প্রতিনিধি দল চুক্তি রক্ষায় মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে একটি স্পষ্ট কাঠামো তৈরির আহ্বান জানায়।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যস্থতায় এখন পর্যন্ত মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় শান্তি যেন মরুভূমির বালু—হাওয়ার একটু স্পর্শেই বিলীন হয়ে যায়।
গাজায় একদিন আগেই ইসরায়েলি বাহিনীর ভারী বোমাবর্ষণে ধসে পড়েছে ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র আর একটি গাড়ি। শিশু-নারীসহ অন্তত ২৪ জনের প্রাণ ঝরে গেছে। এদের লাশের মিছিলেই রবিবার ভেসে উঠেছিল দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল।
ইসরায়েল বলছে, হামাসের একজন যোদ্ধা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৈন্যদের ওপর আক্রমণ চালানোর পর তারা প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা করেছে। দাবি করা হয়েছে, নিহতদের একজন নাকি স্থানীয় হামাস কমান্ডার।
হামাস পাল্টা অভিযোগ করেছে—ইসরায়েল শুধু অজুহাত খুঁজছে হত্যাযজ্ঞ বাড়ানোর জন্য। তারা তিন মধ্যস্থতাকারী দেশকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছে।
গাজা সরকার জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় ৪৯৭ বার তা লঙ্ঘন করেছে। প্রাণ হারিয়েছে ৩৪২ জন সাধারণ মানুষ—যার বেশিরভাগই শিশু, নারী ও প্রবীণ।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানিয়েছেন, ইসরায়েলের হামলার তীব্রতা কমেনি। দখলকৃত এলাকায় বোমা, ভবন ধ্বংস আর শহরকে বেদখল মরুভূমিতে পরিণত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বাসিন্দাদের ভয়—এই আগুন হয়তো গাজার আরও অঞ্চল গিলে খাবে।
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ—যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে—বন্দি বিনিময়, মানবিক সহায়তা প্রবাহ এবং রাফাহ সীমান্ত খোলা রাখার কথা ছিল। এ পর্যন্ত হামাস জীবিত সব বন্দিকে ফেরত দিয়েছে, মৃতদেহও প্রায় সবই হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দুই হাজারের মতো ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে, কিন্তু সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে ত্রাণ পৌঁছানো এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাফাহ ক্রসিং খোলার অনুমতিও দেয়নি ইসরায়েল।
দ্বিতীয় ধাপে গাজা পরিচালিত হবে একটি প্রযুক্তিবিদ-নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কমিটির হাতে, যার তত্ত্বাবধানে থাকবে তথাকথিত “বোর্ড অব পিস”। তারা সীমান্তে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করবে, পুলিশ প্রশিক্ষণ দেবে এবং গাজাকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা করবে।
কিন্তু হামাস স্পষ্ট করে দিয়েছে—অধিকারের অবসান না হলে অস্ত্র রাখা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা আছে, কোনো ফিলিস্তিনিকে জোর করে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, এবং ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনায় সায় দিয়েছে।
অন্যদিকে গাজার রাস্তায় এখনো শোক, দুঃখ আর আতঙ্কের সমাবেশ। কেয়ামতের মতো ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে মানুষ হাঁটছে—যেন প্রতিটি পদক্ষেপে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
















