দুদকের অনুসন্ধানে ৫.২ একরের স্থলে ২৯ একর কৃষিজমির তথ্য—সিলেটে ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর শেষে বক্তব্য
দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনি হলফনামায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিজ সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছিলেন। দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া নতুন তথ্য ও তার মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
২৪ নভেম্বর ২০২৫ | সিলেট প্রতিনিধি
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিজ সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। রবিবার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, হলফনামায় শেখ হাসিনা কৃষি সম্পত্তি ৫.২ একর উল্লেখ করলেও, দুদকের অনুসন্ধানে ২৯ একরের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে দুদক কাজ করেছিল, তবে মনোনয়ন বাতিলের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, দুদকের কাজে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই, তবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। “অনেক সময় সহকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাপা দেন, গণমাধ্যম সেগুলো সামনে আনে। জনগণের সামনে সৎ প্রার্থীকে তুলে ধরা জরুরি,”—মন্তব্য করেন তিনি।
প্রার্থীরা দেশি-বিদেশি আয়ের সঠিক হিসাব হলফনামায় না দিলে সেটি খুঁজে বের করতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “দুদক বিচারকারী প্রতিষ্ঠান নয়; তথ্য উপস্থাপনই আমাদের দায়িত্ব, বাকিটা আদালতের।”
এদিন সিলেটের রিকাবিবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে দুদকের আয়োজনে দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য—গড়বে আগামীর শুদ্ধতা” শ্লোগানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সরকারি দফতরের সেবার মান, হয়রানি ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং অনেক অভিযোগ现场েই নিষ্পত্তি হয়।
গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সারওয়ার আলম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।
















