নরসিংদী কেন্দ্রে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকে বিশেষজ্ঞরা বড় ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা মনে করছেন।
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০২৫ — আজ সকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাজধানীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭—তবে অনুভূতি ছিল আরও তীব্র। ভূমিকম্পের কেন্দ্র যখন নরসিংদীর মাধবদী দেশের ভেতরেই তখন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই ভূকম্পনটি Foreshock, অর্থাৎ বড় ভূমিকম্পের আগাম ইঙ্গিত। গত শত বছরের মধ্যে বাংলাদেশ প্লেট অঞ্চলে বড় ম্যাগনিচিউডের শক্তি জমে আছে অল্প অল্প করে—এবং যে কোনো সময় ঘটতে পারে ৭ থেকে ৮ মাত্রার বিধ্বংসী কম্পন।
ঐতিহাসিক হিসাব আরও ভয়ানক। ১৮৬৯, ১৮৮৫, ১৮৯৭ বা ১৯১৮ এই অঞ্চলে বহুবার ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে। কিন্তু ১৯৩০ সালের পর থেকে বড় কোনো কম্পন না হওয়ায় শক্তি জমেছে আরও বেশি।
বুয়েটের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদী আনসারী বলছেন,
ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৩৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে, আর হতাহত হতে পারে ১ থেকে ৩ লাখ মানুষ।
জরুরি হিসেবে তিনি দিয়েছেন ৬টি করণীয় নির্দেশনা—
- ঝুঁকিভিত্তিক সবুজ, হলুদ ও লাল ভবন চিহ্নিতকরণ,
- ঝুঁকির ভবন রেট্রোফিটিং,
- ঢাকার ভবনগুলোর কাঠামোগত স্বাস্থ্য পরীক্ষা,
- রেসকিউ রুট নিশ্চিত করা,
- নতুন ভবনে কঠোর বিল্ডিং কোড,
- এবং স্কুল–অফিসে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—সময়ের খুব বেশি সুযোগ নেই। আজকের ঝাঁকুনি—হতে পারে আরও বড় বিপর্যয়ের আগাম সতর্কতা।
















