শাজাহান খান–এনায়েত উল্লাহ–ওসমান আলীর বিরুদ্ধে ‘পরিবহন মাফিয়া’ অভিযোগ; তদন্তের দাবি তীব্র হচ্ছে
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ—হাসিনা আমলে পরিবহন সেক্টরে গড়ে ওঠা তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়েছে চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও অরাজকতা; এনায়েত উল্লাহর কোটি টাকার সম্পদ ও ওসমান আলীর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন।
ঢাকা, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশের পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে ‘মাফিয়া-নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্ক’ কাজ করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী—এই তিনজনই বহু বছর ধরে পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
শ্রমিক নেতাদের দাবি এই তিন ব্যক্তির নেটওয়ার্ক চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক তৎপরতা ও পরিবহন ধর্মঘট নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
তাদের অভিযোগ, “হাসিনা আমলে পরিবহন খাতে হাজার কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়েছে।”
ওসমান আলীর বিরুদ্ধে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ
সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনা নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতা অভিযোগ করেছেন—
ওসমান আলী পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন।
তাদের দাবি, তিনি এখনও রাজধানীতে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন শ্রমিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, তাদের হাতে
- ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ১২৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য,
- এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের নামে ২০০টির বেশি গাড়ির মালিকানা,
- এনা পরিবহনের ১৫২টির বেশি বাস
সম্পর্কে প্রমাণ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এনার বিরুদ্ধে “অস্বাভাবিক সম্পদ” তদন্ত চলছে এবং তাঁর পরিবারকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এনায়েত উল্লাহ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।
শাজাহান খান কারাগারে, দুজন পলাতক বা গা-ঢাকা
শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী:
- শাজাহান খান বর্তমানে কারাগারে,
- এনায়েত উল্লাহ বিদেশে,
- ওসমান আলী দেশেই থেকে পরিবহন শ্রমিকদের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়ে শ্রমিক নেতাদের দাবি
সাম্প্রতিক কয়েকদিনে ঢাকার বিভিন্ন পরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জন্যও শ্রমিক নেতাদের একটি অংশ ওসমান আলীকে দায়ী করেছেন।
তারা দাবি করেন—
“এনায়েত উল্লাহর আর্থিক সহায়তায় শ্রমিক ও ক্যাডারদের ব্যবহার করে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।”
পুলিশ বা সরকারি সংস্থা এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি।
















