আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ডেনমার্ক শিক্ষাভিসার নিয়ম কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। দেশটির সরকারের দাবি, অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার আড়ালে ডেনমার্কের শ্রমবাজারে প্রবেশের পথ তৈরি করছে।
১৯ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ডেনমার্কের অভিবাসন ও সংহতি মন্ত্রণালয় জানায়, নতুন নিয়মে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়া আরও কঠিন হবে যদি তারা যোগ্য একাডেমিক মানদণ্ড পূরণ করতে না পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার বা নির্ভরশীল সদস্য আনার সুযোগ সীমিত করা হবে এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের অনুমতি তিন বছর থেকে কমিয়ে এক বছরে আনা হবে।
সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী কায়ে ডিবভাদ বেক, যিনি পদত্যাগের আগে এ পদক্ষেপে স্বাক্ষর করেছিলেন, বলেন—
“শিক্ষাভিসা মানে পড়াশোনা করা, শ্রমবাজারে ঢোকার ‘ব্যাকডোর’ নয়। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে, তাদের অনেকে পরিবারের সদস্য নিয়েও আসছে, কিন্তু পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না।”

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চীনা শিক্ষার্থীদের মাত্র ১% এবং মার্কিন শিক্ষার্থীদের ২% ভিসার সঙ্গে পরিবার ছিল। সেখানে নেপালি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ হার ৭৪% এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৫৮%।
ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়ে করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনামুখী মনে হয়নি। ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে তাদের প্রথম বর্ষের ঝরে পড়ার হার ছিল ১৩%, যেখানে অন্যান্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের হার মাত্র ৪%। এছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অনুপস্থিতি ও ফেল করার হার অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টিনা এগেলুন্ড বলেছেন, “শিক্ষাভিসা কেবল তাদের জন্য হওয়া উচিত যারা সত্যিই পড়াশোনা করতে চায়। আমরা জ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছি—এতে সৎ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”
অন্যদিকে, ডেনমার্কে বাংলাদেশের দূতাবাস ২৫ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ডেনিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা কোনো বৈষম্য বা অযৌক্তিক সমস্যার শিকার না হয়।
















