তিউনিসিয়ার দক্ষিণ উপকূলে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২ জন। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিউনিসিয়ার জাতীয় নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর দুটি মরদেহ উদ্ধার করে কাছের জেরবা দ্বীপের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নৌকাটিতে প্রায় ১৫ জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নৌকাটি জারজিস ও বেন গেরদানের মধ্যবর্তী কোনো এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে গভীর রাতে নৌকাটি ডুবে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রা শুরুর পর শনিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লাইফ জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। পরে তিনি নৌকাডুবির বিষয়ে উদ্ধারকারী দলকে তথ্য দেন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে হেলিকপ্টার ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর নৌযান পাঠানো হয়েছে। নৌকাটি ইতালির দিকে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ সবাই তিউনিসিয়ার নাগরিক। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। একই পরিবারের সাতজন এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার স্বামীও ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গত দুই বছরে তিউনিসিয়া থেকে ইউরোপমুখী যাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও সাগরপথে দুর্ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তিউনিসিয়ার মধ্যে করা চুক্তি নিয়েও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে তিউনিসিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার ফলে সাগরে অভিবাসীদের আটকের সময় সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার হিসাবে, দুই হাজার চৌদ্দ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থীদের মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তিউনিসিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজার এগারো সাল থেকে প্রায় ১০ হাজার তিউনিসীয় নাগরিক সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন।
তিউনিসিয়ার উপকূলে সর্বশেষ এই নৌকাডুবি আবারও ইউরোপমুখী বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার ভয়াবহ মানবিক ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।
















