স্পেনের উত্তর আফ্রিকীয় শহর সেউতায় অভিবাসীদের আশ্রয়ের জন্য অস্থায়ী মানবিক তাঁবু স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এতে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসী প্রবেশের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাবে, জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ শহরটিতে প্রবেশ করলেও তাদের অধিকাংশই স্বেচ্ছায় ফিরে গেছে। তবে এখনো সেখানে কতজন অবস্থান করছেন, তা নিয়ে সরকারি ও স্থানীয় হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শহরটিতে এখনো প্রায় ৫ হাজার অভিবাসী রয়েছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তাদের অনেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং সমুদ্রসৈকতের পাশে অবস্থান করছেন।
অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, অস্থায়ী তাঁবুগুলো চালু হলে সেখানে প্রাথমিক পরিকল্পনার চেয়েও বেশি মানুষকে রাখা হতে পারে। তবে কতদিন এই ব্যবস্থা চালু থাকবে বা আশ্রয় নেওয়া অভিবাসীদের পরবর্তী অবস্থান কী হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলেছে শিশুদের আশ্রয়ব্যবস্থাকে। সরকারি হিসাবে, ২ হাজার ১৬৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে নিবন্ধন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে।
দেশটির প্রধান বিরোধী দল সরকারকে সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেছে। দলটির নেতারা মরক্কো থেকে আসা অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিবাসীদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের নাগরিকও রয়েছেন, যাদের কেউ কেউ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আশ্রয়ের যোগ্য হতে পারেন।
সেউতার মেয়রও পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ সহায়তা না দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে চিকিৎসকদের সংগঠনগুলো হাসপাতাল ব্যবস্থায় চাপ ও বিপর্যয়ের আশঙ্কা জানিয়েছে। পুলিশ সংগঠনগুলোও জনবল ও সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে শহরে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
অভিবাসী সংকট সামাল দিতে অস্থায়ী তাঁবু স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও, সেউতায় অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
















