অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, ক্যানবেরায় নতুন রুশ দূতাবাস নির্মাণের জন্য বরাদ্দ জমির লিজ বাতিল করার ক্ষেত্রে দেশটির সরকার আইনের ভেতরেই কাজ করেছে। ফলে রাশিয়ার দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষ হলো পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।
২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার এক বিশেষ আইন পাস করে রাশিয়ার নতুন দূতাবাস নির্মাণ পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয়। সরকারের মতে, সংসদ ভবন থেকে মাত্র তিনশ মিটার দূরে এই দূতাবাস জাতীয় নিরাপত্তার জন্য “বিশেষ ঝুঁকি” তৈরি করতে পারত।
তখনকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নেই।”
রাশিয়া এই সিদ্ধান্তকে “রুশবিরোধী উন্মত্ততা” বলে অভিহিত করে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায়, দাবি তোলে—এই আইন সংবিধানবিরোধী।
কিন্তু বুধবার অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্ট সর্বসম্মত রায়ে জানায়, সরকারের পদক্ষেপ ছিল “বৈধ ও সাংবিধানিক ক্ষমতার” প্রয়োগ। আদালত রায়ে আরও বলে, রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কারণ তারা ২০০৮ সালে ৯৯ বছরের জন্য প্রায় দুই মিলিয়ন ডলার দিয়ে এই জমির লিজ নিয়েছিল।
এর আগেও আদালত মস্কোর সেই আবেদন খারিজ করেছিল, যাতে রুশ কর্মকর্তাদের ওই স্থান থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, এত কাছাকাছি রুশ উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার সংসদ ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এরপর ১৫ জুন নতুন আইন পাস হয়—রুশ লিজ বাতিলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়ে।
রায় ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলিয়া সবসময় নিজেদের মূল্যবোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় থাকবে। আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট।”
অন্যদিকে রাশিয়ান দূতাবাস জানিয়েছে, তারা রায়ের বিস্তারিত অধ্যয়ন করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “এই রায় ভবিষ্যতের জন্য একটি নজির স্থাপন করেছে।”
অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ১৭ উড়োজাহাজ ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন তীব্রতর হয়, যা পরে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর প্রায় ছিন্ন হয়ে যায়।
















