রাজশাহী, ১১ নভেম্বর ২০২৫ – বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন থেকেই ‘দোসরদের’ প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, “শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও রেকর্ড পাঠাচ্ছেন, আর দেশে চলছে নাশকতার প্রস্তুতি।”
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আয়োজিত জাতীয় সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাশকতার প্রস্তুতি ও ১৩ নভেম্বরের আশঙ্কা
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নাশকতার মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ তুলেছেন।
- রিজভীর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে অডিও বার্তা দিয়ে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৩ তারিখে তারা কিছু করবে—এই সাহস তারা কীভাবে পায়?”
- তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা, পদ্মা সেতুর টাকা, ফ্লাই ওভারের টাকা, সবকিছুর টাকা আছে আওয়ামী লীগের কাছে। যা দিয়ে নাশকতা তৈরি করে একটা চোরা রাস্তা তৈরি করছে আওয়ামী লীগ।”
- তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ‘দোসরদের’ বিষয়ে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
- রিজভী ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে’ – এমন বক্তব্যকে ‘ফ্যাসিবাদী কণ্ঠস্বর‘ বলে মন্তব্য করেন।
জিয়াউর রহমান ও জাতীয় সংহতি
৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় সংহতি দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
- তিনি বলেন, “৭ই নভেম্বর আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা পেয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই সময় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন।”
- তিনি আরও বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান আমাদের সেই সংকট থেকে মুক্তি দিয়েছেন।”
ছাত্রদলের রাজনীতি
ছাত্রদলের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের ছোবলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আক্রান্ত হলেও এখন কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তিনি ছাত্রদলকে শিক্ষার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মূল্যবোধকে সামনে রেখে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
এদিকে, সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনের অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও আমাদের আরও ভালো ফল করা উচিত ছিল। তবে আমরা হতাশ নই, আমাদের লড়াই চলবে।”
















