১১ নভেম্বর ২০২৫
দেশের অর্থনীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যেখানে আগের সরকার ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নিয়ে ব্যয় নির্বাহ করত, সেখানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উল্টো ব্যাংক ব্যবস্থায় আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (৩০ জুন থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত) সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৫০৩ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নতুন দৃষ্টান্ত।
তথ্যে আরও জানা যায়, ৩০ জুন শেষে সরকারের মোট নেট ব্যাংক ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ৩০ অক্টোবর কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়। শুধু ৩০ অক্টোবর একদিনেই সরকারের নেট ঋণ কমেছে প্রায় ১,০০৯ কোটি টাকা, যার বড় অংশ এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস অ্যাডভান্স’ ঋণ পরিশোধ থেকে।
অন্যদিকে, সরকার ব্যাংকের ওপর নির্ভর না করে অ-ব্যাংক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিমা কোম্পানি, অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ৯ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে সরকার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আগের সরকারের সময় ব্যাংক ঋণের কারণে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছিল। কিন্তু নতুন সরকার ব্যয়সংযম নীতি গ্রহণ করেছে, অগ্রাধিকারহীন প্রকল্প স্থগিত করেছে এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় কঠোরতা এনেছে। ফলে ঋণ কমে মুদ্রাস্ফীতির চাপও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় আগের বছরের তুলনায় ভালো। ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক ঋণ ছাড়াই ঋণ পরিশোধ সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই নীতি একদিকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা সতর্ক করেছেন—উন্নয়ন ব্যয়ের গতি দীর্ঘ সময় ধরে ধীর থাকলে অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
















