ভেনেজুয়েলায় গত জুনের ভয়াবহ যুগ্ম ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনগুলো ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে স্বজনদের দাবি, দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরানোয় এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষের মরদেহ উদ্ধারের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
২৪ জুনের ভূমিকম্পে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলের প্রায় ১৯০টি ভবন ধসে পড়ে। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৬,১২৫ জন নিহত হলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এখনও কয়েক হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপিপিই–২৭ আবাসন প্রকল্পে ধসে পড়া ভবনের পাশে এখনও অবস্থান করছেন গ্লেন্ডা ভিলোরিয়া। তিনি ইতোমধ্যে মা ও বোনসহ পরিবারের ছয় সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তবে তিন বছরের ভাগনে মাতেও এখনও নিখোঁজ। ধ্বংসস্তূপ সরানোর মধ্যেও তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেক্সিকোর উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মেক্সিকো’র প্রধান ফ্রইলান জেরার্দো রোবলেস বলেন, অনেক ভবন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে মরদেহের অবস্থান শনাক্ত হলে উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ হাতে করা হয়।
সরকার ‘ভেনেজুয়েলা রেনাসে’ পুনর্গঠন কর্মসূচির আওতায় লা গুয়াইরায় ১,৮৭৫টি নতুন বাড়ি নির্মাণ এবং চলতি বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অন্তত ৪,০০০টি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে প্রায় ২৪,৪৭৭ জন মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজে সরকারি সহায়তা খুবই সীমিত ছিল এবং স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনদেরই অধিকাংশ অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনিচ্ছুক, কারণ তারা আশঙ্কা করছেন এতে স্থায়ীভাবে নিজেদের বাড়িঘর হারাতে হতে পারে। নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবিক সংস্থাগুলো।
ভূমিকম্পে জীবিকা হারানো গ্লেন্ডা ভিলোরিয়া ভবিষ্যতে অন্যত্র চলে যেতে চান। কিন্তু নিখোঁজ ভাগনে মাতেওর মরদেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তিনি ধ্বংসস্তূপ ছেড়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।
















