আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের তাইজ শহরে আবাসন সংকট ও চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে বহু পরিবার যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানে স্নাইপার হামলার ঝুঁকি থাকলেও কম ভাড়া এবং বিকল্পের অভাবে অনেকেই জীবনঝুঁকি নিয়েই এসব এলাকায় থাকছেন।
প্রতিবেদনে একক মা উম ইউসুফের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি চার সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ এলাকায় বাসা ভাড়া নিতে না পেরে ফ্রন্টলাইনের কাছে একটি বাড়িতে ওঠেন। সেখানে বসবাসের দুই মাসের মাথায় তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর থেকে পরিবারটি রাতের বেলায় আলো নিভিয়ে রাখা এবং শিশুদের খোলা জায়গায় খেলতে না দেওয়ার মতো সতর্কতা মেনে চলছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইয়েমেনে স্নাইপার হামলায় বেসামরিক হতাহতের ৬৬ শতাংশই ঘটেছে তাইজে, যার মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘাতে তাইজে ১০ হাজারের বেশি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে নিরাপদ এলাকায় আবাসনের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবিক সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত কিছু বাড়ি সংস্কার করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সীমিত। নিরাপত্তা ও জীবিকার সংকটের কারণে অনেক পরিবার বিনা ভাড়ায় বাড়ি পাহারা দেওয়ার বিনিময়ে ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি বসবাস করছে, আবার যাদের সামর্থ্য আছে তারা নিজেদের বাড়ি ফেলে নিরাপদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
















