মতামতধর্মী এই নিবন্ধে সমাজবিজ্ঞানী ড. গোপবন্ধু দাশ যুক্তি দিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী জন্মহার কমে যাওয়ার পেছনে শুধু নারীর ক্ষমতায়ন বা পরিবার পরিকল্পনা নয়, বরং অর্থনৈতিক চাপ, কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, পরিবর্তিত পারিবারিক কাঠামো এবং আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাব কাজ করছে। লেখকের মতে, বিশ্বে মোট প্রজনন হার ১৯৫০ সালের প্রায় ৫ থেকে বর্তমানে প্রায় ২.২-এ নেমে এসেছে এবং অধিকাংশ দেশই প্রতিস্থাপনযোগ্য জন্মহারের নিচে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনের ব্যয়, পরিবার গঠনে বিলম্ব এবং গৃহস্থালির দায়িত্বে নারী-পুরুষের অসম অংশগ্রহণ জন্মহার কমার অন্যতম কারণ। লেখক হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ ক্লডিয়া গোল্ডিনের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেছেন, পরিবারে দায়িত্বের ভারসাম্য না থাকায় অনেক শিক্ষিত নারী সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দিচ্ছেন বা সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ভারতের মতো দেশের জন্য এই প্রবণতা বিশেষ উদ্বেগের। লেখকের মতে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ না পেলে ভারত জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর আগেই দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপে পড়তে পারে। এ কারণে কর্মসংস্থান, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিশ্লেষণের উপসংহারে লেখক বলেছেন, জন্মহার সংকট মোকাবিলায় শুধু সন্তান জন্মদানে উৎসাহমূলক নীতি যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা, সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবারে নারী-পুরুষের দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টনের মতো কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এসব মূল্যায়ন ও সুপারিশ লেখকের নিজস্ব মতামত, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপিত নয়।
















