এক সময় যে সিরিজকে ঘিরে ছিল অনিশ্চয়তা, এখন সেটি নিয়েই ধীরে ধীরে বাড়ছে আশাবাদ! রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এক বছর পিছিয়ে যাওয়া ভারতের বাংলাদেশ সফর শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। কেবল ক্রিকেটীয় আলোচনা নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিও এই সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সফরটি এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। নতুন সূচি অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা ভারতের।
গত দুই বছরে দুই দেশের সম্পর্ক নানা কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্রিকেটও সেই উত্তেজনার বাইরে থাকেনি। বিশেষ করে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে বিতর্ক এবং পরবর্তী ঘটনাগুলো দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এরপর বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের যোগাযোগও অনেকটা শীতল হয়ে পড়ে।
তবে বিসিবির নেতৃত্বে তামিম ইকবাল আসার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলে আসছেন তিনি। বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কও দুই বোর্ডের যোগাযোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর সফর স্থগিত করার ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনার বিষয়টি সামনে এনেছিল বিসিসিআই।
অবশ্য সূচি নিয়েও কিছুটা জটিলতা রয়েছে। ভারতের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সফর নির্ধারিত সময়ে হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে ক্রিকবাজের দাবি, বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত হলে আফগানিস্তান সিরিজের সূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে। যদিও ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমস শুরু হওয়ায় সময় খুব বেশি পিছিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এই সিরিজ কেবল দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, ভবিষ্যতের বড় দুটি আয়োজনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে এশিয়া কাপ আয়োজন করবে বাংলাদেশ। একই বছরে অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপও। তাই ভারতের সফল সফর ভবিষ্যতে দুই দেশের ক্রিকেট সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
যদিও এখনো কোনো বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ চূড়ান্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়নি, তবু সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং দুই বোর্ডের ইতিবাচক অবস্থান দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর আশার নতুন বার্তা দিচ্ছে। এখন নজর বিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যা সেপ্টেম্বরে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে!
















