মতামতধর্মী এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মরক্কো ও আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিকে ক্রমেই প্রভাবিত করছে। লেখকের মতে, বিশেষ করে পশ্চিম সাহারা ইস্যুকে কেন্দ্র করে মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলে আলজেরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, আর উল্টো ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ। ফ্রান্স পশ্চিম সাহারা বিষয়ে মরক্কোর অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে রাবাতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করেছে, যার ফলে আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। অন্যদিকে স্পেন মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেই আলজেরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মরক্কো সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও আফ্রিকায় অর্থনৈতিক উপস্থিতিকে কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে আলজেরিয়া ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী এবং উত্তর আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য দুই দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
মতামতধর্মী এই বিশ্লেষণে উপসংহারে বলা হয়েছে, মরক্কো ও আলজেরিয়া এখন শুধু আঞ্চলিক প্রভাবের জন্য প্রতিযোগিতা করছে না; বরং জ্বালানি, নিরাপত্তা, অভিবাসন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইউরোপের উত্তর আফ্রিকান নীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক শক্তি হয়ে উঠছে।
















