গত তিন দশকে কাস্পিয়ান সাগরের আয়তন প্রায় সিসিলি দ্বীপের সমান এলাকা হারিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের বৃহত্তম স্থলবেষ্টিত এই জলাধারের বর্তমান পৃষ্ঠভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে মধ্য এশিয়ার আরাল সাগরের মতো পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাগরের পানি সরে যাওয়ায় বহু বন্দর এখন উপকূল থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। একসময় যেসব জাহাজ কাস্পিয়ান সাগরে চলাচল করত, সেগুলোর অনেকই এখন পানিহীন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সাগরের তলদেশে দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকা খনিজ ও জৈব পদার্থ এখন উন্মুক্ত হয়ে বাতাসের মাধ্যমে আশপাশের জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। আরাল সাগর শুকিয়ে যাওয়ার পর মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে যে ধরনের স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, কাস্পিয়ান উপকূলেও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে কাস্পিয়ান তীরবর্তী দেশগুলো এ সংকট মোকাবিলায় এখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। একটি পক্ষের ধারণা, সময়ের সঙ্গে সাগরের পানি আবার ফিরে আসবে, তাই ব্যয়বহুল পুনরুদ্ধার কর্মসূচির প্রয়োজন নেই। অন্য পক্ষ মনে করছে, এ ধারণা বাস্তবসম্মত নয় এবং দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বর্তমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে কাস্পিয়ান সাগরও ধীরে ধীরে আরাল সাগরের পরিণতির দিকে এগোবে। এতে উপকূলীয় দেশগুলোর অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়বে।
















