আঞ্চলিক সংঘাত অব্যাহত থাকলেও গত বছরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার নয়শ বিশ কোটি মার্কিন ডলারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রপ্তানির সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে। পাশাপাশি নজরদারি ও উন্নত অপটিক প্রযুক্তির চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকার-থেকে-সরকার চুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি।
ভৌগোলিকভাবে ইউরোপই এখন ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বাজার। এরপর রয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রকেট আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাঁজোয়া যান সুরক্ষা প্রযুক্তি সংগ্রহে আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও গাজা সংঘাতের পর কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ অস্ত্র বাণিজ্যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল, তবুও নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় বাজারে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জার্মানি ইসরায়েলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অন্যদিকে এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। সামরিক আধুনিকায়ন, যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ছে। বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট, রকেট ব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এসব অঞ্চলেও নতুন বাজার তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় কার্যকারিতা প্রমাণিত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা, নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
















