তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলসংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নিয়মিত উপকূলরক্ষী টহল, নতুন আইন প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘর্ষে না গিয়ে আইন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিতর্কিত জলসীমায় বাস্তব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল অনুসরণ করছে বেইজিং।
সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রসীমায় চীনের উপকূলরক্ষী জাহাজের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাইওয়ানের অভিযোগ, চীনা জাহাজ বাণিজ্যিক নৌযানকে থামিয়ে তাদের গন্তব্য ও যাত্রাপথ সম্পর্কে তথ্য চাইছে এবং ওই জলসীমায় নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করছে। তাইপের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনসম্মত নয় এবং বারবার একই কাজ করলেই তা বৈধ হয়ে যায় না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের এই পদক্ষেপ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। একই ধরনের কৌশল দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং বিভিন্ন বিতর্কিত সামুদ্রিক অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, প্রবালপ্রাচীর ও অর্থনৈতিক জলসীমায় নিয়মিত টহল, গবেষণা জাহাজ মোতায়েন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি স্থায়ী করার চেষ্টা করছে বেইজিং।
এদিকে জাতিগত ঐক্য সংক্রান্ত নতুন আইনের মাধ্যমে দেশের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তাইওয়ান। দেশটির নেতৃত্বের অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে তাইওয়ানের পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যকে দুর্বল করার পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সরকারগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার সুযোগও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে চীন। তাইওয়ান প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থান আগের তুলনায় কম স্পষ্ট হওয়ায় বেইজিং ধাপে ধাপে নিজেদের কৌশল আরও জোরদার করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের লক্ষ্য শুধু তাইওয়ান নয়; বরং সমগ্র এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিতর্কিত সামুদ্রিক এলাকায় নিজেদের প্রশাসনিক ও আইনি প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।















