কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে টরন্টোর আকাশ। এর ফলে শহরটির বায়ুর মান বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও, যেখানে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কানাডার পরিবেশ বিভাগ জানিয়েছে, টরন্টোর বায়ুমান সূচক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই পরিস্থিতি অন্তত বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে টরন্টোর বায়ুদূষণ বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দাবানলের ধোঁয়াই দূষণের প্রধান কারণ। পাশাপাশি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমানে কানাডাজুড়ে আট শতাধিক দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে এক শতাধিক আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উত্তর অন্টারিও অঞ্চলে আগুনে ঘেরা একটি ট্রেন চলাচলের দৃশ্য দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকার বাসিন্দা ও রেলকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাময়িকভাবে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মেইন ও নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যেও পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক সিটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাফেরা ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত ধোঁয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালকে সামনে রেখে হাজারো দর্শকের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ধোঁয়া একসঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই নগর পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
















