ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার জেরে সৌদি আরবকে ‘অবরোধের’ হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব। হুথিদের দাবি, এই হামলার পেছনে সৌদি আরবের ভূমিকা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ইরান থেকে একটি বিমান সানায় অবতরণ ঠেকাতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, সানা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করতে হামলা চালানো হলে ইয়েমেনেরও সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার এবং তাদের ওপর অবরোধ আরোপের অধিকার রয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের যুদ্ধে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের অধ্যায় শেষ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে হোদেইদা অঞ্চলে হুথি ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের পর নতুন এই উত্তেজনা চার বছর ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
হুথিদের দাবি, হামলার সময় ইরান থেকে একটি বিমান সানার দিকে আসছিল, যাতে তাদের একটি প্রতিনিধি দল ছিল। ওই প্রতিনিধি দল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দাফান অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরছিল। পরিস্থিতির কারণে বিমানটি পরে হোদেইদায় অবতরণ করে।
সানা বিমানবন্দরে হামলার পর হুথিরা দক্ষিণ সৌদি আরবের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথিরা জানিয়েছে, সানা বিমানবন্দরের ওপর আরোপিত অবরোধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আরও পদক্ষেপ নিতে পারে এবং সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের বিমানবন্দর অচল করার পথেও তারা হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে ইয়েমেন সরকার অভিযোগ করেছে, ইরান ইয়েমেনে সামরিক সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ পাঠানোর আড়াল হিসেবে এসব বিমান ব্যবহার করছে। জাতিসংঘে ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, সানায় অবতরণের চেষ্টা করা বিমানে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সরঞ্জাম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন। তবে হুথি প্রতিনিধি দলকে ইয়েমেনের নিজস্ব বিমান সংস্থার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, এই জলপথ ইয়েমেনের একটি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রয়োজন হলে শত্রুতাপূর্ণ দেশগুলোর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করা হবে। তবে যেসব দেশ ইয়েমেনের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়, তাদের ক্ষতি করা হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইয়েমেনে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে লোহিত সাগরের নৌপথ আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
















