ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর অন্তত ১৬ সদস্য নিহত হয়েছেন। কয়েক বছর পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। একই সঙ্গে সরকারি পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অর্ধশতাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন।
সরকারপন্থী এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের একটি পাহাড়ি এলাকায় সংঘর্ষের সময় সরকারি বাহিনীর সদস্যরা নিহত হন। তার ভাষ্য, তারা নিজেদের এলাকা ও মর্যাদা রক্ষায় লড়াই করছিলেন।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনীর ১৬ সদস্যের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ২২ জন।
সরকারপন্থী এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার গভীর রাতে বিদ্রোহীরা আকস্মিক হামলা চালিয়ে কয়েকটি সামরিক অবস্থান দখল করে নেয়। পরে পাল্টা অভিযানে শনিবার ভোরের মধ্যে সরকারি বাহিনী সেসব অবস্থান পুনর্দখল করে।
তার দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলায় বিদ্রোহীরা স্নাইপার, ড্রোন ও মর্টারের ব্যবহার করে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
আরেক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তবে বিদ্রোহী পক্ষের হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি জানাননি।
অন্যদিকে সরকারি পক্ষের এক মন্ত্রী দাবি করেছেন, সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাজধানীসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, আর সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ।
দুই হাজার বাইশ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কমে এলেও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ এ সংঘর্ষের আগে বিদ্রোহীরা প্রতিবেশী দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিল।
















