যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই রাজধানী ওয়াশিংটন ও আশপাশের এলাকায় শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’-এর সদস্যরা মিছিল করেছে। মুখে সাদা কাপড়ের মুখোশ ও চোখে রোদচশমা পরে শতাধিক সদস্যকে বিভিন্ন স্থানে একযোগে পদযাত্রা করতে দেখা যায়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, খয়েরি রঙের পোশাক, টুপি ও গাঢ় নীল জামা পরা সংগঠনটির সদস্যরা ভূগর্ভস্থ রেলপথে যাত্রা করে পরে রাজধানী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মিছিল শুরু করেন। তাদের একটি অংশকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা ভবনের সামনেও অবস্থান নিতে দেখা যায়।
মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি গৃহযুদ্ধের সময়কার কনফেডারেট পতাকাও দেখা যায়। সমালোচকদের মতে, এই পতাকা বর্ণবাদ ও ঘৃণার প্রতীক হিসেবে পরিচিত হলেও সমর্থকেরা একে দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যের প্রতীক বলে দাবি করে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এবারের কর্মসূচিতে চার শতাধিক সদস্য অংশ নেন। মিছিল চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার আহ্বান জানান।
উগ্রবাদবিষয়ক গবেষকদের মতে, ‘প্যাট্রিয়ট ফ্রন্ট’ একটি ফ্যাসিবাদী আদর্শভিত্তিক শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অতীতেও তাঁর বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদবিষয়ক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে মিছিলের ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঘৃণা, বর্ণবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো স্থান থাকা উচিত নয় এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।
















