ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। জনসমাগম বাড়াতে রোববার ও সোমবার কার্যত দেশজুড়ে সরকারি কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে।
রাজধানীর প্রধান ধর্মীয় সমাবেশস্থলে ভোর থেকেই হাজারো মানুষ জড়ো হন। খামেনির মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। পুরো এলাকাজুড়ে শহীদত্ব ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা উড়তে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে প্রতিশোধ ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের স্লোগানও শোনা যায়।
অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের কঠোর তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাঁজোয়া যান, অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
কর্তৃপক্ষের আশা, দেশজুড়ে কোটি মানুষের অংশগ্রহণে শোকানুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। রাজধানীতে অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র স্থাপন করে আগত মানুষের জন্য খাবার, পানীয় ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার তেহরানে মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তা শিয়া ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিজ শহরে দাফন করা হবে।
এদিকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি তেহরানে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব দিতে তারা প্রস্তুত এবং খামেনির মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রের নীতি ও অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।















