মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নষ্ট করার সুযোগ ইসরায়েলকে দেওয়া উচিত নয়।
শনিবার ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা, সদিচ্ছা ও অংশগ্রহণ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। তাঁর মতে, টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সরকার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তুরস্ক বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এই অঞ্চলকে সংঘাত ও রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এর আগেও গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বারবার দাবি করেছেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতাকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল পরোক্ষ বৈঠকে অংশ নেয়। ওই বৈঠকে সাম্প্রতিক সমঝোতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে যোগাযোগের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় ষাট দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা এবং সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির সময়সূচি নির্ধারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সমঝোতার ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সমঝোতার বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
















