দক্ষিণ এশিয়াকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তাদের মতে, অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এখন আর ভারতকে একমাত্র কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে না ওয়াশিংটন। বরং বাংলাদেশ, পাকিস্তাল ও নেপালের মতো দেশগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে আবারও প্যাসিফিক কমান্ড রাখে। প্রতিরক্ষা দপ্তর এটিকে ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহাল হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের মধ্যে কৌশলগত বার্তা রয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে কমান্ডের নামের সঙ্গে ‘ইন্দো’ যুক্ত করার মাধ্যমে ভারতকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তকে অনেকে সেই নীতির পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ছোট ও মাঝারি দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। এতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে প্রতিটি দেশের স্বতন্ত্র গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন অংশীদার খুঁজছে, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা করবে, তবে একই সঙ্গে অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে।
বাংলাদেশকে নিয়েও ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ জনসংখ্যা, উৎপাদনশিল্প এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হচ্ছে।
তবে এটি একটি মতামতভিত্তিক বিশ্লেষণ। এতে উপস্থাপিত মূল্যায়ন ও মন্তব্য লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
















