যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন দেশটির পাশে সবসময় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লেবানন যেন যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে আশা, শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠানো বার্তায় আউন যুক্তরাষ্ট্রকে লেবাননের ন্যায্য অধিকার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী ও জনগণের পাশে অব্যাহতভাবে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে দেশটি নতুন ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে।
এদিকে বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এক বার্তায় জানিয়েছে, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গঠনের পথে লেবাননের জনগণের পাশে থাকতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়, যার লক্ষ্য দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘদিনের সংঘাতের স্থায়ী অবসান। সমঝোতায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকায় এই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির আপত্তির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজার তিন শতাধিক মানুষ নিহত এবং বারো হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চল সফর করে দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী হানিন সাইয়েদ জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ ও ভাড়া সহায়তাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা এলাকায় এক সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।
















