দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান অভিবাসীবিরোধী মনোভাব দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ, হামলা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। বেকারত্ব, অপরাধ এবং জনসেবার অবনতির জন্য অনেকেই বিদেশি অভিবাসীদের দায়ী করছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের জন্য অভিবাসীরা দায়ী নন। দেশটির উচ্চ বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শিল্পখাতের দুর্বলতা, জনসেবার অবনতি এবং দুর্নীতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বৈষম্য, ঔপনিবেশিক শোষণ, বর্ণবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো এবং অপর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সংস্কার।
১৯৯৪ সালে বর্ণবাদ অবসানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও সম্পদ, ভূমি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার বৈষম্য অনেকাংশে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে প্রবৃদ্ধি কমে গেছে, উৎপাদনশিল্প সংকুচিত হয়েছে এবং স্থায়ী কর্মসংস্থানের পরিবর্তে অনিশ্চিত কর্মসংস্থান বেড়েছে। ফলে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের সময় দুর্বল জনগোষ্ঠীকে দায়ী করার প্রবণতা নতুন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকৃত দায়ীদের পরিবর্তে অন্য শ্রমজীবী মানুষের দিকে পরিচালিত হয়।
তারা মনে করেন, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, মানবপাচার ও অপরাধচক্র দমন এবং অবৈধ শ্রম শোষণকারী নিয়োগদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে এসব সমস্যার সমাধান কখনোই গণপিটুনি, সহিংসতা বা বিদেশিবিদ্বেষের মাধ্যমে সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত জনসেবা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি দমন এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমেই দক্ষিণ আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উচিত জাতীয়তা বা পরিচয়ের বিভাজনের বদলে শ্রমজীবী মানুষের অভিন্ন স্বার্থে ঐক্য গড়ে তোলা।
















