অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোকেন জব্দের ঘটনা ঘটেছে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে। পুলিশের অভিযানে একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার থেকে ২.৭ টন কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮১৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার নিউ সাউথ ওয়েলসের লন্ডনডেরি এলাকায় একটি সম্পত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনটি শিপিং কনটেইনারের ভুয়া মেঝের নিচে লুকিয়ে রাখা বিশেষ গোপন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের সময় ২১ ও ২৫ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আমদানি করা সীমান্ত-নিয়ন্ত্রিত মাদকের বাণিজ্যিক পরিমাণ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তকারীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের নির্দেশে কোকেনগুলো উত্তর কুইন্সল্যান্ডের মিজ পয়েন্ট হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করা হয়েছিল। মে মাসে সমুদ্রতীরে একটি নৌযান অবতরণস্থলের কাছে ভাসমান অবস্থায় ৪০ কেজি কোকেন উদ্ধারের পর ‘অপারেশন মিনজিয়াং’ নামে তদন্ত শুরু হয়।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কুইন্সল্যান্ড ও নিউ সাউথ ওয়েলসে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন একটি ‘মাদার ভেসেল’ বা মূল জাহাজ সলোমন দ্বীপপুঞ্জে আটক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া মাদক পাচারকারীদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বাজার। দেশটিতে প্রতি গ্রাম কোকেনের মূল্য প্রায় ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত পৌঁছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ মাদকবিষয়ক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বের সর্বোচ্চ কোকেন ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রগুলো কতটা সংগঠিত এবং মুনাফার জন্য তারা কতদূর যেতে প্রস্তুত। তিনি জানান, মাদকের উৎস এবং জড়িত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক শনাক্তে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
















