ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর টাকলোবানের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে দুই কিশোরের গুলিবর্ষণে অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
রোববার সান হোসে ন্যাশনাল হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর বয়স ১৪ ও ১৫ বছর। ঘটনার পর একজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়, অন্যজন পরে আত্মসমর্পণ করে। তাদের কাছে একটি .৩৮ ক্যালিবার রিভলভার ও একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল ছিল। পিস্তলটি এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার, যিনি অভিযুক্তদের একজনের আত্মীয়। অস্ত্রটি কীভাবে তাদের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই কিশোর সরাসরি একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে কোনো কথা না বলেই গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি খালি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তিনজন ছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কে পালানোর সময় আরও চারজন আহত হন।
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র কর্নেল অ্যালেন রে কো বলেন, অভিযুক্তদের আচরণে আগে থেকেই ‘সতর্ক সংকেত’ ছিল, যা নজরে এলে হয়তো এ ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের একজনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র ব্যবহারসংক্রান্ত সহিংস ভিডিওও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিহত এক শিক্ষার্থীর মা জেনেলিন বাদোরিয়া অস্ত্রের মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অস্ত্রগুলো শিশুদের হাতে না পৌঁছালে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।
ঘটনার পর ফিলিপাইনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বুলিংবিরোধী নীতি ও শিক্ষার্থীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছে।
ফিলিপাইনে বন্দুক–সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনা খুবই বিরল। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।















