নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীবকে চাঁদাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাত থেকে চাঁদা আদায়ের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রোববার রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাঁকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে সজীবের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। পরে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে ওই গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে অর্থ আদায়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে।
সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। হেফাজতে নেওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় পুলিশ ও শিল্পমালিকদের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এটিকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে প্রশাসন বলছে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















