কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রেখে অস্ট্রেলিয়া নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে—এ অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিতে অভিযোগ দায়ের করেছেন একদল অস্ট্রেলীয় নাগরিক। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দাবানল, বন্যা, তাপপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিকর শৈবাল বিস্তারের মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চেয়েছেন।
এটি ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) ঐতিহাসিক রায়ের পর জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আনা প্রথম বড় আইনি অভিযোগ। আইসিজের ওই রায়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির জন্য রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করার পথ উন্মুক্ত হয়।
অভিযোগকারীদের একজন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও স্বেচ্ছাসেবী অগ্নিনির্বাপক কর্মী ড. ব্যারি ট্রেইল বলেন, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক স্যাটারডে’ দাবানলে তাঁর কয়েকজন বন্ধু প্রাণ হারান। পরে ২০১৯-২০ সালের ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলেও তিনি সরাসরি অংশ নেন। তাঁর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের নয়, বর্তমানের সংকট এবং এটি ইতোমধ্যে মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আরেক অভিযোগকারী ব্রেনডন ডোনোহু জানান, ২০২২ সালে ব্রিসবেনে ভয়াবহ বন্যার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি ১০ দিন নিজের অ্যাপার্টমেন্টে আটকা ছিলেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা ও চলাচলজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ তাঁর জীবনে আরও বড় প্রভাব ফেলে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিম্বার্লি অঞ্চলের আদিবাসী নেতা অধ্যাপক অ্যান পোলিনা বলেন, ভয়াবহ বন্যার কারণে তাঁকে ফিটজরয় নদীসংলগ্ন এলাকা ছাড়তে হয়েছে। এতে শুধু বসতভিটাই নয়, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা সাংস্কৃতিক জ্ঞান ও ঐতিহ্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অস্ট্রেলিয়া’র আইনজীবীরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ার রপ্তানিকৃত কয়লা ও গ্যাস থেকে সৃষ্ট জলবায়ু ক্ষতির দায় শুধু দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা জাতিসংঘের কাছে দাবি করেছেন, জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার পরিকল্পনা ছাড়া কয়লা ও গ্যাস প্রকল্প অনুমোদন ও ভর্তুকি দেওয়া মানবাধিকারবিরোধী বলে ঘোষণা করা হোক।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা ও গ্যাস রপ্তানিকারক অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগের রায় আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, জাতিসংঘের সিদ্ধান্তের পর দেশটির সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
















