যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের একটি সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির প্রধান বাধা হিসেবে ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ ধারণাকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষক জেফ্রি স্যাকস ও সিবিল ফারেস।
তাদের মতে, ইরান, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইরাককে ঘিরে গত কয়েক দশকের সংঘাতের পেছনে একটি সম্প্রসারণবাদী রাজনৈতিক ধারণা কাজ করেছে, যা ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ নামে পরিচিত। এই ধারণা অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বাইরে প্রতিবেশী অঞ্চলেও বিস্তৃত হওয়া উচিত বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার জোট সরকারের কট্টরপন্থী নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এমন নীতিকে সমর্থন করে আসছেন। তাদের মতে, নিরাপত্তার নামে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও প্রতিবেশী অঞ্চলে সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানও একই কৌশলগত চিন্তার অংশ। তবে এসব পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বরং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
লেখকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। তারা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নয় বরং আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, পশ্চিম তীরে দখলনীতি অবসান, লেবানন ও সিরিয়া থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি।
তাদের মতে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তি অর্জন সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে সেই সুযোগ বাস্তব শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধানের ওপর।
















