কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কট্টর ডানপন্থী আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। প্রাথমিক ভোট গণনায় তিনি ৪৯.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদাকে পরাজিত করেন, যিনি পেয়েছেন ৪৮.৭ শতাংশ ভোট।
নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ৯৯.৯ শতাংশ ফলাফলে দে লা এসপ্রিয়েলার এগিয়ে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তাঁর এই বিজয়ের মাধ্যমে চার বছর পর দেশটির রাজনীতিতে আবারও ডানপন্থীদের প্রত্যাবর্তন ঘটছে।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা প্রচারণাকালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের জন্য দায়ী করেন। তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ, তেল ও গ্যাস খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি সব কলম্বিয়ানদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করব।” এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দন বার্তার কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচনটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টকে বিভক্ত কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ করতে হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও নতুন প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ইভান সেপেদা চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক পুনঃযাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর প্রচারণা শিবির প্রায় ৩৩ হাজার ব্যালট বাক্সের ফলাফল নিয়ে আপত্তি তুলেছে।
নিরাপত্তা, মাদক পাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু ছিল। দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষমতায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন।
কলম্বিয়ার এই নির্বাচন লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক ডানপন্থী রাজনৈতিক উত্থানের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিলি, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর ও বলিভিয়ার পর এবার কলম্বিয়াও ডানমুখী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথে হাঁটল।
















