ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রসপারিটি পার্টি দেশটির সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ফলে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই নেতা আরও এক মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় থাকার পথ নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলটি সহজেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সরকার খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে।
২০১৮ সালে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর আবি আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হন। ক্ষমতায় এসে তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশংসা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধীরা অভিযোগ করেছে যে, সরকার সাংবাদিকদের আটক, নাগরিক সমাজের সংগঠনের কার্যক্রম সীমিত করা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকুচিত করার পথে এগিয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ওরোমিয়া ও আমহারা অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এছাড়া ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টাইগ্রে অঞ্চলে সংঘটিত গৃহযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও ২০২২ সালের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে টাইগ্রে যুদ্ধের অবসান ঘটে, সম্প্রতি অঞ্চলটির প্রধান রাজনৈতিক দল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এতে আবারও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারের নির্বাচন টাইগ্রে অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ইথিওপিয়া সরকার ২০২৬ সালে ১০ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা আফ্রিকার দ্রুততম প্রবৃদ্ধিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
















