সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। আলোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি গঠন এবং ভবিষ্যৎ কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় দেশ একটি ৬০ দিনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করে, যার লক্ষ্য একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো। নতুন গঠিত কমিটি রাজনৈতিক পর্যায়ে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে এবং এর অধীনে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি বিষয়ে পৃথক কর্মদল কাজ করবে।
আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধের বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লেবাননে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠক শেষে দাবি করেন, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত কিছু সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে সমঝোতা অর্জন সহজ হবে না। এসব বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলতি সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকবে।
এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবাতিয়েহসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যদিও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, প্রয়োজন মনে করলে তাদের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান বজায় রাখবে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
















