যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা। লেবার পার্টির ভেতরে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ আলোচনা সামনে এসেছে।
গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের বিজয়ের পর লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। দলটির ভেতরের একাধিক প্রভাবশালী নেতা স্টারমারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করছেন এবং দলের ও দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টারমারের সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, স্টারমার অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হবেন।
তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দুই নেতার মধ্যে কোনো যোগাযোগও হয়নি।
উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর স্টারমার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি নেতৃত্বের জন্য যেকোনো আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং বার্নহামের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিতে পারে।
লেবার পার্টির ২০২০ সালের নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হতে ছয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল। দলীয় সংসদ সদস্যদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হলে তা দলের মধ্যে বিভাজন বাড়াতে পারে এবং সরকারের কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনৈতিক মহলেও উদ্বেগ রয়েছে যে দীর্ঘ নেতৃত্ব সংকট বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
















