লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালিয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল এবং ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষের জানালার গ্রিলে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে নিহতের পরিবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, মেহেদীকে হত্যা করে পরে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন জিয়া দাবি করেন, তার ছেলে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং আত্মহত্যা করার মতো কোনো পরিস্থিতিতে ছিল না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও অভ্যর্থনা কক্ষে ভাঙচুর চালান। গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
















