উত্তর বেলফাস্টে এক ব্যক্তির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় একজন সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তারের পর উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা একাধিক যানবাহন ও স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার শত শত বিক্ষোভকারী শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে একটি বাস ও কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি ভবনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগিয়ে পরে দাহ্য পদার্থভর্তি বোতল নিক্ষেপ করে।
বেলফাস্টের পাশাপাশি পশ্চিমে অবস্থিত অ্যানট্রিম এলাকাতেও লোকজনকে জড়ো হতে দেখা যায়। উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম মন্ত্রী মিশেল ও’নিল সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুখোশধারী ব্যক্তিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিন্দনীয় এবং এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে সংঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ত্রিশ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এ হামলার শিকার হন। তার চোখে গুরুতর আঘাত এবং মুখ ও পিঠে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রায়ান হেন্ডারসন বলেন, এ ঘটনা জনমনে ভয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষ হামলাকারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সাহসী পদক্ষেপেই আহত ব্যক্তির প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে ভয়াবহ ও মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই হামলা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যৌথ বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সমাজে এ ধরনের নৃশংসতার কোনো স্থান নেই। তারা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, সহিংসতা কেবল স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষতিই ডেকে আনবে।
















