হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, উভয় পক্ষ এমন একটি নতুন সামুদ্রিক পথ নিয়ে সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে, যা দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে সমানভাবে গুরুত্ব দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রস্তাবিত পথটি বর্তমানে ব্যবহৃত উত্তর বা দক্ষিণ করিডরের পরিবর্তে নতুন একটি রুট হবে। তবে এ বিষয়ে ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হবে কি না, সেটি নতুন পথ নিয়ে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দেশটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, নৌ অবরোধ এবং সামরিক পদক্ষেপের কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বের সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে সব পক্ষকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।
এদিকে দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একজন মুখপাত্র জানান, মধ্যস্থতাকারীরা আগের সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল আবারও ওমান সফর করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন, দ্রুত একটি সমঝোতা হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে। তিনি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে উত্তেজনা কমাতে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্যও প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
















