যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থি সংগঠনের বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং দলটির ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্য নীতির দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে।
প্রগতিশীল চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদের সমর্থকেরা অভিযোগ করছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সকে জয়ী করতে বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে কোটি কোটি ডলার ঢেলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
নির্বাচনী নথি অনুযায়ী, স্টিভেন্সের পক্ষে এবং এল-সাইয়েদের বিপক্ষে প্রচারণায় বিভিন্ন রাজনৈতিক তহবিল ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন মিলিয়ে ছয় কোটিরও বেশি ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইসরায়েলপন্থি সংগঠনের নির্বাচনী শাখাই তিন কোটির বেশি ডলার ব্যয় করেছে বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের বড় অংশ এসেছে ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব অর্থের প্রকৃত উৎস অনেক ক্ষেত্রেই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না, যা নির্বাচনী অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
অন্যদিকে, আবদুল এল-সাইয়েদের প্রচারণাও বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন ও ফিলিস্তিনপন্থি দাতাদের সমর্থন পেয়েছে। তবে স্বাধীন প্রচারণায় তাঁর পক্ষে ব্যয় হওয়া অর্থ প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় অনেক কম।
স্টিভেন্স নির্বাচনী বিতর্কে বলেছেন, নির্বাচনী অর্থায়ন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এবং শুধু তাঁর পক্ষেই নয়, উভয় প্রার্থীর পক্ষেই বিভিন্ন তহবিল ব্যয় হচ্ছে। তবে এল-সাইয়েদ দাবি করেছেন, বিপুল অর্থ ব্যয় প্রমাণ করে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব থেকে মুক্ত নন।
বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের এই নির্বাচন ডেমোক্রেটিক দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান, বিশেষ করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্নে দলটির নীতিগত দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, সেই সমীকরণেও এই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।















