জাপানে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের আইনগত অভিভাবকত্ব কেবল একজন অভিভাবকের হাতে থাকত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সন্তান তার বাবা বা মায়ের একজনের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। তবে নতুন আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
নতুন আইনের আওতায় এখন থেকে বিচ্ছেদের পর উভয় অভিভাবক যৌথভাবে সন্তানের অভিভাবকত্ব রাখতে পারবেন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ আইন কার্যকর হয়েছে। এর আগে উন্নত শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানই একমাত্র দেশ ছিল যেখানে যৌথ অভিভাবকত্বের আইনি স্বীকৃতি ছিল না।
হংকং থেকে আসা জন ডেং নামের এক ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জাপানে বসবাস করছেন, বলেন বিচ্ছেদের পর তার সাবেক সঙ্গী সন্তানদের নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে তিনি সন্তানদের সঙ্গে খুব সীমিত সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি জানান, মাসে মাত্র কয়েক ঘণ্টা তত্ত্বাবধানে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান। মাঝের সময়টুকুতে কোনো যোগাযোগের সুযোগ থাকে না। এমনকি তার মেয়ে ফোনেও কথা বলতে পারে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডেং বলেন, সন্তানদের ছাড়া তার জীবন শূন্য হয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, সন্তানদেরও বাবা-মা উভয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অধিকার থাকা উচিত।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার চব্বিশ সালে দেশটিতে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দাম্পত্য বিচ্ছেদে শেষ হয়েছে। ওই বছর এক লাখ চৌষট্টি হাজারের বেশি শিশু বিচ্ছিন্ন পরিবারে অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত প্রভাবের মুখে পড়ে।
আইনজীবী সেইয়া সাইতো বলেন, নতুন আইন শিশুদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তার মতে, যেসব পরিবারে বিচ্ছেদের পরও বাবা-মায়ের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় থাকে, সেখানে যৌথ অভিভাবকত্ব শিশুদের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। নারী অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন, পারিবারিক সহিংসতার শিকার অনেক নারী নতুন ব্যবস্থার কারণে সাবেক নির্যাতনকারীর সঙ্গে আবার যোগাযোগে বাধ্য হতে পারেন।
এক নারী জানান, তার সাবেক স্বামী দীর্ঘদিন শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বিচ্ছেদের পর একক অভিভাবকত্ব পাওয়ার পর তিনি নিরাপদ অনুভব করেছিলেন। কিন্তু এখন নতুন আইন তাদের আবার আইনি সম্পর্কে বেঁধে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সহিংসতা বা শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকলে আদালত যৌথ অভিভাবকত্ব অনুমোদন করবে না। সেক্ষেত্রে একক অভিভাবকত্বই বহাল থাকবে।
তারপরও অনেকের আশঙ্কা, আদালতে নির্যাতনের পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা সবসময় সহজ নয়। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইনটি একদিকে শিশুদের উভয় অভিভাবকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ দেবে, অন্যদিকে নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
















