ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত কমে আসছে বলে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও মার্কিন প্রশাসন প্রকাশ্যে অস্ত্র মজুত নিয়ে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে, বিভিন্ন গবেষণা ও সামরিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অস্ত্র সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ চলাকালে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। এতে দেশটির কৌশলগত অস্ত্র মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র শতাধিক উন্নত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের বড় অংশ। পাশাপাশি টমাহকসহ দীর্ঘপাল্লার বহু ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অস্ত্র মজুত ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কারণ অস্ত্র উৎপাদনে কাঁচামাল সংকট, সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু ইরান নয়, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাতের দিকও বিবেচনায় রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হলে অস্ত্র মজুতের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জামেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় বাস্তবতা সামনে এনেছে— দেশটি দ্রুতগতিতে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারলেও একই গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদন করতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অব্যাহত থাকলে অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
















