বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে পড়ছে মেক্সিকোর খাদ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থায়। আন্তর্জাতিক নৌপথে অস্থিরতা এবং জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে খরচ কমাতে ও খাদ্য কেনাকাটায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
দেশটির বিভিন্ন পাইকারি বাজারে টমেটো, আলু, গরুর মাংস ও মরিচসহ নিত্যপণ্যের দাম কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে ক্রেতারা প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত কিছু কিনতে পারছেন না। বিক্রেতারাও লাভ কমিয়ে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিম্নআয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় করছে। ফলে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি তাদের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম সাধারণ মূল্যস্ফীতির চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। অনেক পরিবার এখন সাপ্তাহিক বাজার সীমিত করে কেবল প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
মাংস ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গরু ও খাসির মাংসের দাম চলতি বছরের শুরু থেকেই বাড়ছে। সরবরাহ সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্য এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে কৃষকরাও সারের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন। দেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ সার আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব সরাসরি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃষক ও ভোক্তার দামের ব্যবধান উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। উৎপাদক কম দাম পেলেও ভোক্তাকে অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও সমালোচকরা বলছেন, এসব সুবিধা মূলত বড় বিপণিবিতানকেন্দ্রিক হওয়ায় দরিদ্র মানুষ বাস্তবে তেমন উপকার পাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটে পড়বে।
















