রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ পারমাণবিক মহড়ায় প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নিয়েছে বেলারুশ। কয়েকদিনব্যাপী এই সামরিক মহড়ায় কৌশলগত ও স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুশীলন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ বেলারুশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মহড়ায় রাশিয়া ও বেলারুশের শীর্ষ নেতৃত্ব অংশ নেন। এতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন অংশ নেয়। দীর্ঘপাল্লার অতিধ্বনিগত ক্ষেপণাস্ত্রও পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।
বেলারুশের নেতৃত্ব দাবি করেছে, তারা কাউকে হুমকি দিচ্ছে না। তবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া শুধু সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি শক্ত বার্তা। একই সঙ্গে এটি ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিতও বহন করছে।
মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় এসব অস্ত্র সংরক্ষণের খবরও প্রকাশ পেয়েছে।
ইউক্রেনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, রাশিয়া বেলারুশকে নতুন আগ্রাসনের পথে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমানে বেলারুশে থাকা রুশ সেনা সংখ্যা নতুন বড় ধরনের হামলার জন্য যথেষ্ট নয়।
তারা মনে করছেন, এসব মহড়া মূলত চাপ সৃষ্টির কৌশল এবং পশ্চিমা জোটকে সতর্ক করার প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে এটি বেলারুশ ও ইউক্রেনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিতও হতে পারে।
সম্প্রতি বেলারুশ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশটি নতুন সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
















